ডেঙ্গু হলে কি করবেন ?
ডেঙ্গু নাম শুনলেই সবার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়, তাই না? আসলে ডেঙ্গু জ্বর এক ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এখন চলুন একে একে জানি, ডেঙ্গু হলে কী কী করণীয় আছে এবং কীভাবে সাবধান থাকা যায়।
ডেঙ্গু জ্বর কী?
ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টাই নামের মশা এই ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান বাহক। এ মশা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর
ডেঙ্গুর কারণ
ডেঙ্গু মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই ভাইরাস চারটি ধরনের হতে পারে — DEN-1, DEN-2, DEN-3 এবং DEN-4।
ডেঙ্গুর প্রকারভেদ
১. ডেঙ্গু ফিভার (DF)
২. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF)
৩. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (DSS)
ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ
প্রাথমিক উপসর্গ
- হঠাৎ করে উচ্চ জ্বর (১০৪°F পর্যন্ত)
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখের পিছনে ব্যথা
- পেশি ও হাড়ের ব্যথা
- বমি বমি ভাব
জটিল উপসর্গ
- শরীরে লাল দাগ
- নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
- ঘন ঘন বমি
- পেটে তীব্র ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট
ডেঙ্গু হলে করণীয় জরুরি পদক্ষেপ
বিশ্রাম নেওয়া
শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। যত বেশি বিশ্রাম নেবেন, তত দ্রুত সুস্থ হবেন।
প্রচুর পানি পান
ডেঙ্গু হলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই পানি, ডাবের পানি, ওআরএস, ফলের রস ইত্যাদি বেশি করে পান করুন।
প্যারাসিটামল সেবন
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেতে পারেন। এটি জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
যেসব ওষুধ এড়িয়ে চলবেন
অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না। এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডাক্তারের কাছে কখন যাবেন
সতর্কতামূলক লক্ষণ
যদি বমি বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, বুকে বা পেটে ব্যথা হয় তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন কবে
রক্তচাপ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, বা চেতনা হারালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।
ঘরোয়া কিছু করণীয়
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খান। যেমন — স্যুপ, খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিম ইত্যাদি।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
জ্বর থাকলে শরীর মুছে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বরফ ব্যবহার করবেন না।
কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন
মশারি ব্যবহার
সবসময় মশারি টানিয়ে ঘুমান, বিশেষ করে দিনে। এডিস মশা দিনে কামড়ায় বেশি।
পানি জমতে না দেওয়া
বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকতে দেবেন না। টব, টায়ার, ফুলদানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে করণীয়
শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। পানিশূন্যতা এড়াতে নিয়মিত পানি খাওয়াতে হবে।
ডেঙ্গুর জটিলতা এবং ঝুঁকি
ডেঙ্গু থেকে হেমোরেজিক ফিভার বা শক সিনড্রোম হতে পারে যা জীবনঘাতি হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন ডেঙ্গু হলে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। কিন্তু ডেঙ্গু ভাইরাল হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।
ডেঙ্গু জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্নই পারে আপনাকে সুস্থ করে তুলতে। পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেন ডেঙ্গু আমাদের ঘরের দরজায় না আসে।
FAQs
১. ডেঙ্গু হলে কী খাবো?
ডাবের পানি, ওআরএস, লেবুর পানি, সহজপাচ্য স্যুপ ও ফলের রস খাওয়া উচিত।
২. ডেঙ্গু কত দিনে ভালো হয়?
সাধারণত ৭-১০ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু সেরে যায়, তবে জটিল হলে সময় বেশি লাগতে পারে।
৩. ডেঙ্গুতে কী একদম বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে?
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি।
৪. ডেঙ্গু কি পুনরায় হতে পারে?
হ্যাঁ, ডেঙ্গুর চারটি আলাদা ভাইরাস থাকায় একবার হলে আবার অন্য ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া সম্ভব।
৫. ডেঙ্গু হলে কফ বা সর্দি হয় কি?
না, সাধারণত ডেঙ্গুতে সর্দি-কাশি দেখা যায় না। তবে ব্যতিক্রম হতে পারে।